আমাদের কমবেশি সবার বাসাতেই গ্যাস স্টোভে রান্না করা হয়। আমরা সবাই গ্যাস স্টোভ এর সঠিক ব্যবহার
জানি আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রায় প্রত্যেকটি অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। আর তাই রান্নার জন্য সবাই তাদের বাসায় গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করে। গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করে রান্না করা যেমন সহজ তেমনি সাবধানতা অবলম্বন না করলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখতে পাই। আর এই ঘটনাগুলো বেশিরভাগই ঘটে অসাবধানতার সাথে গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করার কারণে। সঠিক নিয়মে গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। গ্যাস লিকেজ, অগ্নিকাণ্ড বা অপচয় এড়াতে সঠিক নিয়ম মেনে গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস স্টোভ এর সঠিক ব্যবহার করলে এটি অবশ্যই নিরাপদ। নিরাপদ গ্যাস স্টোভ এর দাম কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এটি সাপোর্ট দিতে সক্ষম।
গ্যাস স্টোভ এর সঠিক ব্যবহার
গ্যাস স্টোভ হলো আমাদের রান্নাঘরের একটি অপরিহার্য অংশ। গ্যাস স্টোভের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই দ্রুত রান্না করতে পারি।, তবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। গ্যাস স্টোভ ব্যবহারের সময় কিছু সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কমে যাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক গ্যাস স্টোভ এর সঠিক ব্যবহার-
১. স্টোভ চালুর আগে সঠিকভাবে চেক করা
গ্যাস স্টোভ চালানোর আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। যেমন গ্যাসের লিকেজ আছে কিনা সেটা দেখে নিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলেই সাথে সাথে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করুন।
চুলার চারপাশে কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক যেন না থাকে তা দেখতে হবে। চিমনি বা রান্নাঘরের জানালা খোলা রাখুন, যাতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।
২. গ্যাস স্টোভ সঠিকভাবে চালানো
গ্যাস স্টোভ চালানোর সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার প্রথমে ম্যাচ বা লাইটার জ্বালান, তারপর গ্যাসের চুলার চাবি ঘুরিয়ে চুলা জ্বালান। এতে গ্যাস লিক হওয়ার ঝুঁকি কমে।
সবসময় মাঝারি বা কম আঁচে রান্না করার চেষ্টা করুন, কারণ এতে গ্যাস বাঁচে এবং খাবার ভালোভাবে রান্না হয়।
৩. গ্যাসের শিখা ঠিক আছে কিনা দেখা
গ্যাসের শিখা নীল হলে বুঝবেন এটি ঠিকমতো জ্বলছে। যদি শিখা হলুদ বা লালচে হয়, তবে বুঝতে হবে বার্নার বা গ্যাস পাইপে কোনো সমস্যা আছে। এবং এটা দ্রুত ঠিক করতে হবে।
গ্যাসের শিখা কম দেখলে বার্নার পরিষ্কার করুন, কারণ জমে থাকা ধুলো বা তেল গ্যাস ভালোভাবে আসতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
৪. রান্নার সময় নিরাপত্তা বজায় রাখা
গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করার সময় কিছু নিরাপত্তা নিয়ম মানা খুবই জরুরি। গ্যাসের চুলার ওপর ঝুলন্ত কাপড় বা বড় হাতার জামা পরে রান্না করবেন না, কারণ এতে আগুন লেগে যেতে পারে।
শিশুদের রান্নাঘরে একা যেতে দেবেন না এবং তাদের থেকে গ্যাসের চুলা দূরে রাখুন। রান্নার পর গ্যাসের চাবি বন্ধ করতে ভুলবেন না।
গ্যাস স্টোভের যত্ন ও পরিষ্কার করা
প্রতিদিন রান্না শেষ হওয়ার পর গরম পানি ও লিকুইড সাবান দিয়ে গ্যাস স্টোভ মুছে নিন। বার্নার ও নজেল পরিষ্কার রাখুন, যাতে গ্যাসের শিখা ঠিকমতো বের হতে পারে। তেল বা মশলার দাগ জমে থাকলে লেবুর রস বা ভিনেগার ব্যবহার করে পরিস্কার করুন। প্রতি সপ্তাহে বার্নার খুলে ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন, যাতে জমে থাকা ময়লা ও কার্বন দূর হয়। মাসে একবার গ্যাস পাইপ ও সংযোগ চেক করুন, যেন কোথাও লিকেজ না থাকে।
গ্যাস স্টোভ ব্যবহার এর সময় সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
১. গ্যাস জ্বলতে দেরি হলে কী করবেন?
প্রথমে চেক করুন গ্যাস সিলিন্ডারে গ্যাস আছে কিনা। বার্নারে ধুলো জমে থাকলে তা পরিষ্কার করুন। পাইপে কোনো লিকেজ আছে কিনা দেখুন।
২. শিখা কম হলে কী করবেন?
বার্নার ও ছিদ্রগুলো পরিষ্কার করুন, যাতে গ্যাস ঠিকমতো বের হতে পারে। গ্যাসের চুলার চাবি ঘুরিয়ে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দেখুন। গ্যাসের পাইপে কোনো সমস্যা থাকলে পাইপ পরিবর্তন করুন।
৩. গ্যাসের গন্ধ পেলে কী করবেন?
চুলার সুইচ ও গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত বন্ধ করুন। কোনোভাবেই ম্যাচ বা ইলেকট্রনিক সুইচ জ্বালাবেন না। দ্রুত দরজা-জানালা খুলে দিন, যেন গ্যাস বের হয়ে যেতে পারে।
গ্যাস সাশ্রয় করার উপায়
গ্যাস সাশ্রয় করার কিছু সহজ কৌশল—
রান্নার সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন, এতে দ্রুত রান্না হয়।
কম আঁচে রান্না করুন, কারণ এতে গ্যাস কম খরচ হয়।
প্রেসার কুকার বা ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করলে গ্যাসের খরচ কম হয়।
উপসংহার
সতর্কতার সাথে গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে না। প্রতিদিন রান্না করার আগে গ্যাস স্টোভ চেক করে তারপর রান্না শুরু করবেন। আর অবশ্যই বাচ্চাদেরকে রান্নাঘর থেকে দূরে রাখবেন। আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন। গ্যাস স্টোভ এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আরো জানতে আমাদের সাথে থাকুন Cyberclub24.com